সৎকারের আগে কফিনের ভেতর থেকে ‘টোকা’ দেয়ার শব্দ, জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা
ব্যাংককের বাইরে এক বৌদ্ধ মন্দিরে মৃতদেহ সৎকারের প্রস্তুতির সময় হঠাৎই কফিনের ভেতর থেকে টোকা দেয়ার শব্দ শোনা যায়। এতে মন্দিরের মহাব্যবস্থাপকসহ উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয়ে ওঠেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানায়, কৌতূহল নিয়ে কফিন খুলতেই দেখা যায়—৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা চোখ মেলে তাকিয়ে আছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে ওয়াট র্যাট প্রাখং থাম বৌদ্ধ মন্দিরে। মন্দিরের মহাব্যবস্থাপক পাইরাত সুধথুপ বলেন, “কফিন খুলে দেখি বৃদ্ধা সামান্য চোখ খুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। পাশাপাশি কফিনের এক পাশে বারবার টোকা দিচ্ছেন—যেন বহুক্ষণ ধরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।”
তবে তিনি কি সত্যিই মারা গিয়েছিলেন? স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছানো হলেও পরে জানা যায়—তিনি আসলে মারা যাননি। দাহ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে কফিনের ভিতরের শব্দ শুনে সবাই চমকে ওঠেন।
বৃদ্ধার ভাই জানান, স্থানীয় কর্মকর্তারা তাঁকে বোনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন; তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাইয়ের কাছে কোনো মৃত্যুসনদ ছিল না। মৃত্যুসনদ কীভাবে নিতে হয় তা বোঝানোর সময়ই কফিনের ভিতর থেকে শব্দ পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি বুঝে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চিকিৎসকেরা জানান, ওই বৃদ্ধা মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগছিলেন—যে কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, কিন্তু তাঁর শ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। গত শনিবার (২২ নভেম্বর) শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে মনে হওয়ায় পরিবার তাঁকে মৃত ভেবে সৎকারের জন্য ফিসানুলোক প্রদেশ থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মন্দিরে আসে।

