সংক্ষেপে সারাংশ: লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় এপিএম টার্মিনালস
চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসকে বেছে নিয়েছে সরকার।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর মতে, নিচু র্যাংকিং, দীর্ঘ ওয়েটিং টাইম ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটাতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেন গ্লোবাল অপারেটর
- চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্ব ব্যাংকের সূচকে ৪০৫টির মধ্যে ৩৩৪তম,
- বিপরীতে ভিয়েতনামের কাই মেপ টার্মিনাল গ্লোবাল অপারেটরের পরিচালনায় বিশ্বে সপ্তম।
বাংলাদেশও একই ধরনের দক্ষতা ও প্রযুক্তি অর্জন করতে চায়।
মালিকানা বিদেশে যাচ্ছে?
সরকার বলছে— কখনোই না।
- টার্মিনালের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশের।
- এপিএম টার্মিনালস শুধু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করবে এবং পরবর্তী সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।
- মেয়াদ শেষে অবকাঠামো পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরবে।
এপিএম টার্মিনালস কে?
- এপি মোলার–মেয়ার্স্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান
- বিশ্বের শীর্ষ ২০ বন্দরের মধ্যে ১০টি তারা পরিচালনা করে
- ৩৩ দেশে ৬০টির বেশি টার্মিনাল অপারেট করছে
চুক্তির প্রধান শর্ত
- সম্পূর্ণ প্রাইভেট বিনিয়োগ: সাইনিং মানি ২৫০ কোটি টাকা, মোট বিনিয়োগ প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা
- ৩০ বছরের চুক্তি, প্রয়োজনে বাড়ানো যাবে
- কনটেইনার হ্যান্ডেলিংভিত্তিক রাজস্ব—ভলিউম বেশি হলে আয়ও বেশি
- নির্দিষ্ট ন্যূনতম ভলিউমের গ্যারান্টি
- রেগুলেটর হিসেবে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
৩০ বছর কি বেশি সময়?
সরকারের ব্যাখ্যা— আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এটি মধ্যম মেয়াদ।
- মুম্বাই: ৬০ বছর
- সাংহাই: ৫০ বছর
- ভিয়েতনাম কাই মেপ: ৫০ বছর
চুক্তি কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না?
সরকার বলছে—
- পিপিপি আইন, ক্রয়নীতি ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তার কারণে পূর্ণ দলিল প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ দরপত্র প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- বিশ্বব্যাংক/এডিবি–ও পূর্ণ চুক্তি প্রকাশের পরামর্শ দেয় না; সারাংশ প্রকাশই বৈশ্বিক মান।
অপারেটর বাছাইয়ের স্বচ্ছতা
- জি-টু-জি পদ্ধতিতে টেন্ডার
- প্রাক-যোগ্যতা যাচাই
- টেকনিক্যাল–ফিনান্সিয়াল মূল্যায়ন
- নিরপেক্ষ পরামর্শক নিয়োগ
- আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ও অডিটযোগ্য রেকর্ড
শ্রীলঙ্কার মতো ঝুঁকি আছে কি?
সরকার বলছে—
- লালদিয়া প্রকল্প কোনো বিদেশি ঋণে নয়, পুরো বিনিয়োগ বেসরকারি অপারেটরের
- মালিকানা রাষ্ট্রের
- ট্রাফিক স্টাডি, রিস্ক শেয়ারিং ও কারেন্সি ঝুঁকি চুক্তিতে স্পষ্ট
অপারেটর ব্যর্থ হলে কী হবে?
- পারফরম্যান্স KPI
- জরিমানা, রেমেডি ক্লজ
- সরকারের “স্টেপ-ইন রাইট”—অর্থাৎ প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ
- চুক্তি বাতিল ও পুনরায় হস্তান্তর ব্যবস্থা
কেন নতুন টার্মিনাল প্রয়োজন?
- বিদ্যমান টার্মিনালে ডিজিটাইজেশন–সংস্কার চলছে
- লালদিয়া চালু হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, বটলনেক কমবে
- সক্ষমতা ব্যাপক বাড়বে
জাতীয় নিরাপত্তা
নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখবে।
ডেটা লোকালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিং—সবই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
দেশের লাভ
- বছরে ৮ লাখ TEU অতিরিক্ত সক্ষমতা (৪৪% বৃদ্ধি)
- বৃহত্তর কনটেইনার জাহাজ প্রবেশ
- আমদানি–রপ্তানিতে সময় ও খরচ কমবে
- সরাসরি নতুন রুট—দূরবর্তী দেশের সঙ্গে সংযোগ
- ৫০০–৭০০ সরাসরি এবং হাজারখানেক পরোক্ষ কর্মসংস্থান
- বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর
- পরিবেশবান্ধব গ্রীন পোর্ট
বিতর্ক কেন?
বিডা চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা—
- কিছু তথাকথিত “বিশেষজ্ঞ” যথাযথ তথ্য না জেনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন
- কিছু গোষ্ঠীর বন্দর–সংশ্লিষ্ট অনিয়ম বন্ধ হওয়ায় অসন্তোষ
- কিছু মানুষের রাজনৈতিক ও স্বার্থগত প্রতিক্রিয়া
শেষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লিখেছেন—
তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে নাতনিকে নিয়ে লালদিয়ায় হাঁটতে হাঁটতে বলতে পারবেন, “এই উন্নয়ন দেশবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছিল।”

