ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো অচলাবস্থা: আগুনের প্রায় এক মাস পরও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত
হাইলাইটস:
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কুরিয়ার ডেলিভারি কার্যত বিপর্যস্ত
- আগুনের পর শারীরিক পরীক্ষার হার ২০% থেকে কমে ৫%-এর নিচে
- ভুয়া ঘোষণার আশঙ্কা ও নিষিদ্ধ/ক্ষতিকর পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- পাঁচটির মধ্যে মাত্র দুইটি ডেলিভারি গেট চালু
- প্রায় অর্ধেক চালান অনডেলিভারড, আটকে আছে প্রায় ১,০০০ টন পণ্য
- নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে কার্গো ভিলেজ সরিয়ে নেওয়ার ভাবনা সরকারের
ঢাকা বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগার প্রায় চার সপ্তাহ পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে এয়ার কুরিয়ার পণ্য ডেলিভারি এখনও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত, ফলে সারা দেশের আমদানিকারকরা পড়েছেন বিপাকে।
আগুনে ধ্বংস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাসমূহের কারণে ঢাকা কাস্টমস হাউস বাধ্য হয়েছে আমদানিকৃত পণ্যের শারীরিক পরীক্ষার হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ও নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুয়া ঘোষণার আশঙ্কা
আগুনে প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি উন্নতমানের স্ক্যানার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এক কাস্টমস কর্মকর্তার ভাষায়, “আগে ঝুঁকি বিবেচনায় অন্তত ২০% পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা হতো। এখন তা ৫%-এরও কম।”
ফলে অধিকাংশ পণ্য দ্রুত ছাড় করতে গিয়ে চেকিং প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কের হিসেবে দেখানো—অর্থাৎ ভুয়া ঘোষণার—সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। কাস্টমস এজেন্টরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানায়, প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ এয়ারওয়ে বিল প্রক্রিয়াকরণ হয়—যার ৭০%–ই এক কেজির কম ওজনের নথিপত্র। বাকিগুলোতে থাকে গার্মেন্টস স্যাম্পল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামাল, ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য। ৫০টিরও বেশি কুরিয়ার কোম্পানি এখানে কার্যক্রম চালায়, যার মধ্যে DHL ও FedEx-এর দখল প্রায় ৭০% বাজার।
মাত্র দুটি ডেলিভারি গেট চালু
আগে পাঁচটি গেট দিয়ে ডেলিভারি হতো, কিন্তু এখন মাত্র দুইটি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো এখনো পুনর্নির্মাণ হয়নি। কুরিয়ার কোম্পানির পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকায় পণ্যগুলো এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। ফলে বহু এজেন্ট পরিশোধিত শুল্কের পরও নিজেদের পণ্য খুঁজে পাচ্ছেন না।
একজন কাস্টমস এজেন্ট জানান, প্রতিদিনের প্রায় অর্ধেক পণ্য ডেলিভারি না হয়ে পড়ে থাকে, এবং অন্তত ১,০০০ টন পণ্য বিমানবন্দরের ভেতর আটকে আছে।
অন্যদিকে বিমানের দাবি, তারা দিন-রাত সার্ভিস দিচ্ছে, কিন্তু আমদানিকারকরা রাতে পণ্য নিতে আসেন না—ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত জট তৈরি হচ্ছে।
কার্গো ভিলেজ সরানোর ভাবনা
কাস্টমস কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, বিমানবন্দর এলাকায় কার্গো ভিলেজ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। আগুনের পর আবারও এ দাবি জোরালো হয়েছে। তদন্ত কমিটি স্থানান্তরের সুপারিশ করতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে সব কুরিয়ার কোম্পানি নিয়ম মেনে না চলায় স্থানান্তর বাস্তবায়নেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কার্গো ভিলেজ স্থানান্তরই এখন সময়ের দাবি।

