দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তি হিসেবেই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। বিএনপির আইনজীবীদের দাবি, বর্তমানে দেশের কোনো আদালতেই তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সব মামলা থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।
নির্বাহী আদেশ নয়, আইনি পথেই মুক্তি
আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তবে তিনি সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে আদালতের মাধ্যমেই প্রতিটি মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপির আইনজীবীরা জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিপুলসংখ্যক মামলা প্রত্যাহার না হলে নিজের জন্য বিশেষ সুবিধা নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না তিনি। এ কারণেই আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।
শতাধিক মামলা, দীর্ঘ রাজনৈতিক চাপ
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আরও ৭২টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একসময় আদালতের নির্দেশে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে মামলা, রাজনৈতিক চাপ ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে তাকে।
গ্রেপ্তার, কারাভোগ ও নির্বাসন
২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাজধানীর মইনুল রোডের বাসা থেকে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর প্রায় ৫৫৪ দিন বা ১৮ মাস কারাভোগ শেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হন তিনি। চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে রূপ নেয়। তবে বিদেশে অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর আইনি লড়াই অব্যাহত ছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মামলামুক্তি
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আদালতের রায়ে একে একে সব মামলা থেকে খালাস পান তারেক রহমান। বিএনপির আইনজীবীরা বলেন, এটি কোনো নির্বাহী সুবিধার ফল নয়; বরং প্রতিটি মামলায় আদালতের মাধ্যমেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ফলে একজন সম্পূর্ণ মামলামুক্ত ও নিরপরাধ নাগরিক হিসেবেই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।
আইনজীবীদের বক্তব্য
তারেক রহমানের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সরকার মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিলেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন—বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মামলা আগে নিষ্পত্তি করতে হবে, তার নাম থাকবে সর্বশেষে। আইন, আদালত ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তিনি এই অবস্থান নেন।
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান সম্পূর্ণ নিরপরাধ মানুষ হিসেবেই দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”
আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, যেসব কঠিন পরিস্থিতি ও মামলার বোঝা নিয়ে তারেক রহমান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, সেখান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

