গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনো ‘যুদ্ধবিরতি’ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। তার দাবি, ইসরায়েল সম্পূর্ণভাবে গাজা উপত্যকা থেকে না সরলে প্রকৃত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রোববার (৭ ডিসেম্বর) টাইনস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দোহা ফোরামের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আঙ্কারার অবস্থান তুলে ধরেন।
আল থানি বলেন, “আমরা এখন এক অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পর্যায়ে আছি। এটি কেবলমাত্র দেখনদারির যুদ্ধবিরতি। একে প্রকৃত যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে, যখন ইসরায়েল সম্পূর্ণভাবে গাজা থেকে সরে যাবে। তখনই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে এবং মানুষ অবাধে চলাচল করতে পারবে—যা এখনো হয়নি।”
গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ইসরায়েল সেনা পিছিয়ে ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত অবস্থান নেয়, যা গাজাকে পূর্ব–পশ্চিমে দুটি অংশে বিভক্ত করে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত সময়েও রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজায় নিহত ইসরায়েলিদের সব লাশ হামাসের কাছে থেকে ফেরত পেতে হবে।
সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েল জানায়, তারা রাফাহ একমুখীভাবে খুলতে রাজি—যাতে ফিলিস্তিনিরা কেবল গাজা ছেড়ে যেতে পারে। তবে মিসর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে আলোচনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ ঘোষণা হতে পারে।

