
আলোচনা ও বিশ্লেষণ—মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ট্রাম্পের শান্তি-প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে এবং দেশটিতে ন্যাটো সেনা মোতায়েনের সুযোগ আর থাকবে না। মস্কো প্রস্তাবটির প্রতি ইতিবাচক হলেও কিয়েভ স্পষ্টতই অস্বস্তিতে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া সহ বহু শহরে ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে রুশ বাহিনী। একের পর এক শহর ও গ্রাম দখলে নিচ্ছে ক্রেমলিন। এমন পরিস্থিতিতেই আবারও আলোচনার নতুন অধ্যায় খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে ২৮ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে হোয়াইট হাউস। দাবি করা হচ্ছে—প্রস্তাবটি গৃহীত হলে গত ৩০ বছরের রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নানা জটিলতা মিটে যেতে পারে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হবে।
তবে প্রস্তাবটি মানলে ইউক্রেনকে ছাড়তে হবে গুরুত্বপূর্ণ তিন অঞ্চল—ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে দুই দেশের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই পাঁচ অঞ্চলের বাইরে রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড ফেরত দেবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬ লাখে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে ন্যাটো সেনা মোতায়েন করা নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বয় করবে পেন্টাগন। কোনও ধরণের চুক্তি লঙ্ঘন হলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বাতিল হবে, আর রাশিয়া আক্রমণ চালালে ওয়াশিংটন সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে—সঙ্গে থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
শান্তি প্রতিষ্ঠার এই ২৮ দফা প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার অভিযোগ—ওয়াশিংটন মূলত মস্কোর দাবি পূরণে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিপরীতে পুতিন মনে করেন, এই প্রস্তাব শান্তিচুক্তির ভিত্তি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। একদিকে মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি, আরেকদিকে প্রধান মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার শঙ্কা। হয় এই কঠিন ২৮ দফা মেনে নিতে হবে, নয়তো আরও বড় ঝুঁকির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন মন্তব্য করেন, “আমার মনে হয়, মার্কিন প্রস্তাব একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে এটা নিয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সম্মতি আদায় করতে পারেনি।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে ইউক্রেনের আরেক মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
