রাজধানীতে এক মাসে মশা বেড়েছে ৪০ শতাংশ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বাসিন্দারা

রাজধানীতে এক মাসে মশা বেড়েছে ৪০ শতাংশ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বাসিন্দারা

রাজধানীতে মশার উপদ্রব এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক মাসে ঢাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ মশা বেড়েছে বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—আগামী এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বমান অনুযায়ী ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়, সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রায় ৮৫০—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ মশা বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, উপযুক্ত তাপমাত্রা, পানিতে পর্যাপ্ত খাদ্য উপাদান এবং ড্রেন-ডোবা ও নর্দমা বন্ধ হয়ে থাকার কারণে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ কিউলেক্স মশার লার্ভা পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হচ্ছে। তার মতে, কেবল ফগিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন; কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।

এদিকে মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবছরই প্রশ্ন ওঠে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে মশকনাশক ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মশার প্রকোপ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে প্রতিবেদন যাচাই করা হবে এবং ক্রয়কৃত ওষুধের মানের সঙ্গে মিলিয়ে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *