প্রেমসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড় এলাকায় পিস্তল সদৃশ বস্তুসহ এনসিপির এক সদস্যসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাকিবুল ইসলাম তুষার ও রাগিব হাসনাইন। রাগিব মহানগর এনসিপির সার্চ কমিটির সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে মুনশিপাড়া এলাকায় প্রেমিকা সানিয়াত তানজিল (১৯)-এর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার সাবেক প্রেমিক আরাফ গনি অর্থ (১৫) ও তার সহযোগীরা সিয়ামিনকে মারধর করে। পরে এলাকার কয়েকজন বড় ভাইয়ের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় পার্কের মোড়ে ফের দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। স্থানীয়রা আবারো বিষয়টি থামিয়ে উভয় পক্ষকে বাসায় ফিরতে বলেন। এর পরপরই সিয়ামিন তার মামা রাকিবুল ইসলাম তুষারকে খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শুভ জানান, কিছুক্ষণ পর তুষার ও রাগিবের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে ৮-১০ জন যুবক এসে অর্থের মাথায় পিস্তল ঠেকায়। বারবার বাধা দেয়ার পরও দ্বিতীয়বার অস্ত্র ঠেকানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেন। আটক হওয়ার সময় তারা এনসিপির নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন এবং দুজনের একজন নিজেকে এনসিপির সদস্য পরিচয় দেন।
ঘটনার পর থানায় আসেন মহানগর এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী। দলের যুগ্ম সমন্বয়ক শান্তি কাদেরী জানান, রাগিব এনসিপির মহানগর সার্চ কমিটির সদস্য হওয়ায় তারা বিষয়টি জানতে থানায় উপস্থিত হয়েছেন।
মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তল সদৃশ বস্তুকে ফরেনসিকে পাঠানো হবে এটি আসল নাকি খেলনা তা পরীক্ষা করার জন্য। তিনি আরও বলেন, “মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যদি বস্তুটি অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। আমাদের কাছে কারো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

