কাফনের কাপড় পরে আত্মঘাতী হামলার জন্য স্বেচ্ছা ফর্মে সাক্ষর কাতাইব হিজবুল্লাহর

কাফনের কাপড় পরে আত্মঘাতী হামলার জন্য স্বেচ্ছা ফর্মে সাক্ষর কাতাইব হিজবুল্লাহর

সম্প্রতি ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে আত্মঘাতী হামলার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ফর্মে নাম লিখিয়েছে কিছু সদস্য। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সমর্থনে বিস্তৃত সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানায়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কাতাইব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কিছু সদস্য সাদা কাফনের কাপড় পরে স্বেচ্ছাসেবক ফর্মে স্বাক্ষর করছেন। গোষ্ঠীটি এই পদক্ষেপকে আত্মঘাতী অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এটি আসে সেই ঘোষণার পর, যেখানে কাতাইব হিজবোল্লাহ তাদের যোদ্ধা এবং সমর্থকদের ইরানের বিরুদ্ধে হুমকাকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিস্তৃত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আবু হুসেইন আল-হামিদাভি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, আমরা ইরানি জনগণের পাশে থাকবে। এটি তাদের জন্য সহজ হবে না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হবে।’

আল-হামিদাভি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে ‘সত্য ও মিথ্যার শক্তির’ মধ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরান ও তার জনগণের সঙ্গে থাকবে। 

এর আগে, ২০০৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হিজবুল্লাহকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এটি ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর একটি। এটি ইরাকের জনপ্রিয় মোবিলাইজেশন ফোর্সের অংশ এবং পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির অংশ হিসেবে কাতাইব হিজবুল্লাহ এই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

এরইমধ্যে, ইরানের হামলার উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। বিশেষ এই রণতরীটির দৈর্ঘ্য ৩৩৩ মিটার (এক হাজার ৯২ ফিট)। এটি ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে। এতে ৯০টি এয়ারক্র্যাফট রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। স্পেশাল ফাইটার জেটের মধ্যে রয়েছে ‘এফ-৩৫ সি’ (স্টেলথ), এফ/এ-১৮ইএফ (সুপার হরনেট), ই২ডি-হকআই, ইএ-১৮জি (গ্রলার), এমএইচ-৬০আর-এস (সিহক)। মোট ৫ হাজার ৬শ’ ৮০ জন ক্রু মেম্বার রয়েছে রণতরীটিতে।

তবে, ইরানের হামলার জন্য আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভূখণ্ড কিংবা জলসীমাতেও কোনো আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপের অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝেই ইরানের রাজধানী তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ার নতুন একটি দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল) উন্মোচন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়েছে—ইরানের ওপর যেন কোনো সামরিক হামলার চেষ্টা না করা হয়। 

বিলবোর্ডের ছবিতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও অচল যুদ্ধবিমান। দেয়ালচিত্রটিতে একটি বিমানবাহী রণতরীর ওপর ধ্বংসপ্রাপ্ত কয়েকটি যুদ্ধবিমানের ছবি আঁকা রয়েছে। এর সঙ্গে ইংরেজিতে লেখা আছে, ‘ইফ ইউ সোও দ্য উইন্ড, ইউ উইল রিপ দ্য ওয়ারলউইন্ড’। মানে ‘খারাপ কাজের বীজ বুনলে ফলস্বরূপ  ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে’। 

এই দেয়ালচিত্রটি এমন সময় উন্মোচন করা হয়েছে, যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন,যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। আমি চাই না তেমন কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, গণবিক্ষোভ দমননের পর আইআরজিসি এখনো ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত রয়েছে। 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *