ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প!

ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি দেয়, তাহলে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করার জন্য তিনি ‘অত্যন্ত কঠোর’ নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক২ মিনিটে পড়ুন

নিউজ নেশন-এ কেট পাভলিচকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, 

যদি কিছু ঘটে, ইরান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমি অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে– ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এমন হুঁশিয়ারির পরই ট্রাম্পের মন্তব্য এলো।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। বলেন, তার শাসনামলে ইরানের হুমকির বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টকে শুধু দফতরের মর্যাদাই নয়, হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদেরও রক্ষা করতে হবে।’ 

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের নজর কি এবার কানাডায়?

ট্রাম্পের ভাষায়, 

হুমকি যদি কোনো ব্যক্তির দিকেও হয়, প্রেসিডেন্ট না হলেও, আমি কঠোর জবাব দেব।

এদিকে, এসবের মধ্যেই বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করে উত্তর আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অতিক্রমের সময় রণতরীটি স্বয়ংক্রিয় পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখেছিল, যা নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ বলেও জানানো হয়েছে।

গেল ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও পরে সেই আন্দোলন রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়। 

আরও পড়ুন: পাল্টাপাল্টি ন্যারেটিভ /ইরানের বিক্ষোভে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে কারা?

ট্রাম্প ইরানি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার চেষ্টা না করে দেশের সুশাসনে মনোযোগ দেয়া উচিত। খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে ‘নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের’ জন্য দায়ী করার পরই এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এ ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং অঞ্চলটিতে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *