নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম চালু

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম চালু

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আরও দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা হটলাইন নম্বর ১০৯-এ ফোন করলেই কিউআরটির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা প্রতিরোধে সময়োপযোগী ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিকল্প নেই। কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে কোনো নারী বা শিশু নির্যাতনের শিকার হলে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানো নিশ্চিত করা হবে। আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে এই টিম কাজ করবে।

তিনি আরও জানান, কিউআরটি কার্যক্রমকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে এই টিম কাজ করবে, যাতে দ্রুততম সময়ে কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, নারী ও শিশুর জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এ সময় তিনি দেশের তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণদের পাহারাদারের ভূমিকায় কাজ করতে হবে—নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ভবিষ্যতের গণভোট ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, কুইক রেসপন্স টিম চালুর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে, যা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমে আসবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কিউআরটি কার্যক্রমকে একটি যুগোপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা ভুক্তভোগীদের আস্থা ও সাহস জোগাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *