দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল-এর দণ্ডাদেশ: মূল ঘটনা

গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬), সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল-কে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের সময় সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

১. যে সকল অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন:

  • গ্রেপ্তারে বাধা প্রদান: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ মার্শাল ল জারির পর যখন তাকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারি হয়, তখন তিনি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেন। আদালত এটিকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
  • নথি জালিয়াতি: মার্শাল ল বা সামরিক আইন জারির প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে তিনি সরকারি নথিপত্র জাল করেছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
  • আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন: সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ও প্রয়োজনীয় আইনি ধাপ অনুসরণ না করেই তিনি জরুরি অবস্থা জারির চেষ্টা করেছিলেন।

২. আদালতের পর্যবেক্ষণ:

বিচারক বেক দায়ে-হিউন (Baek Dae-hyun) রায়ে বলেন, “আসামি দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি তার অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা দেখাননি।”

৩. পরবর্তী ধাপ:

  • আপিলের সুযোগ: ইউন সুক ইওল এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য ৭ দিন সময় পাবেন। তাঁর আইনজীবী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তারা আপিল করবেন।
  • অন্যান্য মামলা: এটি ইউনের বিরুদ্ধে থাকা ৮টি মামলার মধ্যে প্রথম রায়। বিদ্রোহ বা রাষ্ট্রদ্রোহের (Insurrection) মতো আরও গুরুতর অভিযোগে তাঁর অন্য একটি মামলার বিচার চলছে, যেখানে প্রসিকিউটররা তাঁর মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। সেই মামলার রায় আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *