গাজার জন্য মার্কিন ‘বোর্ড অব পিস’: সদস্য ও প্রেক্ষাপট
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি), হোয়াইট হাউস গাজার পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে। এই বোর্ডটি মূলত গাজার টেকনোক্র্যাট প্রশাসন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর কৌশলগত নজরদারি চালাবে।
১. বোর্ডের নেতৃত্ব ও নির্বাহী সদস্যবৃন্দ
এই বোর্ডের প্রধান বা চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাহী সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বেশ কিছু পরিচিত মুখ:
- টনি ব্লেয়ার: সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
- জ্যারেড কুশনার: ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম কারিগর।
- মার্কো রুবিও: বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- স্টিভ উইটকফ: মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ মার্কিন দূত।
- হাকান ফিদান: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- আলি আল থাওয়াদি: কাতারের বিশিষ্ট কূটনীতিক।
- অজয় বাঙ্গা: বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট।
- নিকোলে ম্লাদেনোভ: গাজার ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২. ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির অনুপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
বোর্ডের নির্বাহী সদস্যদের তালিকায় কোনো ফিলিস্তিনির নাম না থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কাজের জন্য আলি শা’আত (Ali Sha’ath)-এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এই বোর্ডের সরাসরি তদারকিতে কাজ করবে।
৩. বোর্ড গঠনের লক্ষ্য ও কার্যাবলি
এই বোর্ড মূলত মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ। তাদের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- গাজার শাসনব্যবস্থায় সক্ষমতা তৈরি করা।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ।
- হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসের তদারকি।
- আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী (ISF)-কে সহযোগিতা করা।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ পর্যায়ে (৭১,২৬০ জন) পৌঁছেছে। যদিও প্রথম ধাপে একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় কার্যকর হয়েছে, তবে গাজার ২১ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

