পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, তেঁতুলিয়ায় টানা পাঁচ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ থাকলেও দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে এখনো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা পুরোপুরি কাটেনি। সকালের সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা বাতাসে জনজীবনে শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এছাড়া রোববার (১১ জানুয়ারি) তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি, শনিবার (১০ জানুয়ারি) ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ফলে টানা পাঁচ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ছে তেঁতুলিয়া।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরার কারণে তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে, যার ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডার কারণে মানুষজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দেখা গেলেও তেমন উত্তাপ নেই। সকাল ও সন্ধ্যায় কনকনে শীত থেকে রক্ষা পেতে চায়ের দোকান ও বিভিন্ন মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন শীতার্ত মানুষ।
এদিকে শীতের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, কয়েকদিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা চলছে। আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখানে রেকর্ড হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিন শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

