বিশ্বজুড়ে চা এবং কফি দুটোই খুব জনপ্রিয় পানীয়। দিনের শুরুতে অনেকের কাছে এগুলো না হলে যেন দিন শুরুই হয় না। যদিও দুটি পানীয়ই শরীরকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে, তবুও কোনটা সকালে বেশি উপকারী তা নির্ভর করে আপনার শরীরের প্রয়োজন এবং স্বাস্থ্যের লক্ষ্যের ওপর।
চা সাধারণত গাছের পাতা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় এবং এর অনেক ধরনের প্রস্তুত প্রক্রিয়া রয়েছে—যেমন, লাল চা, গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, দুধ চা ইত্যাদি। এতে একটি বিশেষ উপাদান থাকে যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ বাড়ায়। বিশেষ করে চায়ের মধ্যে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা মনকে শান্ত রাখে।
অন্যদিকে, কফি তৈরি হয় ভাজা কফি দানা গুঁড়ো করে পানিতে ফুটিয়ে। কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি, যা শরীরকে দ্রুত চনমনে ও সতর্ক করে তোলে। কফিতে এমন কিছু উপকারী উপাদানও থাকে, যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
চায়ের উপকারিতা:
• রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
• শরীরের প্রদাহ কমায়
• ইনসুলিনের কাজ ভালো করে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে
• মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
• শরীরকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে
চায়ের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। যেমন, গ্রিন টি ওজন কমাতে সহায়ক এবং মস্তিষ্কের জন্য ভালো, ওলোং ও হোয়াইট টি শরীরের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, এবং হারবাল টি ক্যাফেইন মুক্ত হলেও তার নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে।
কফির উপকারিতা:
• হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
• মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয় এবং পারকিনসন রোগের ঝুঁকি কমায়
• সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা কমাতে পারে
• শরীরের প্রদাহ কমায়
• ডোপামিন বাড়ায়, ফলে মেজাজ ভালো থাকে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়
অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষতিকর দিক:
অতিরিক্ত কফি খেলে উদ্বেগ, হাত কাঁপা, ঘুমের সমস্যা, হজমের অসুবিধা বা হৃদস্পন্দন বাড়ে। আর অতিরিক্ত চা—বিশেষ করে বেশি ক্যাফেইনযুক্ত—এটিও একই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তবে সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায়। ক্যাফেইনের প্রতি মানুষের সংবেদনশীলতা ভিন্ন, তাই শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে তা লক্ষ্য করা জরুরি।
বানানোর পদ্ধতির প্রভাব:
চা বানানোর ক্ষেত্রে, যদি প্রচলিতভাবে বানানো হয়, তাহলে এর পলিফেনল অনেক বেশি থাকে, যা শরীরের জন্য ভালো। তবে দুধ দিয়ে বানানো চা কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কফির ক্ষেত্রেও, কফির দানা ভাজা হওয়ার পদ্ধতি, গুঁড়োর পরিমাণ এবং বানানোর পদ্ধতি (যেমন এসপ্রেসো, ফ্রেঞ্চ প্রেস, ড্রিপ) ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।
শেষ কথা হলো, চা বা কফি—উপকারী হওয়ার ক্ষেত্রে একটা সঠিক উত্তর নেই। যদি আপনি দ্রুত শক্তি ও তীক্ষ্ণ মনোযোগ চান, কফি হতে পারে ভালো পছন্দ। আর যদি তুলনামূলক নরম শক্তি ও শান্ত ভাব চান, তবে চা হবে বুদ্ধিমানের পছন্দ। দিনের শুরুতে কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত, তা আপনার শরীর, জীবনধারা এবং স্বাস্থ্যের লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে—এটা কোনও ট্রেন্ডের ওপর নয়।


Tea is best for morning.