দেশের জনপ্রিয় ও ব্যতিক্রমধর্মী সাইকেডেলিক রক ব্যান্ড ‘সোনার বাংলা সার্কাস’ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। ‘মহাশ্মশান’ শিরোনামের এই কনসেপ্ট অ্যালবামটি ব্যান্ডটির সংগীতযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এই অ্যালবামে মোট ১৭টি গান স্থান পেয়েছে।
ব্যান্ড সূত্রে জানা গেছে, অ্যালবামটি দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম অংশ ‘মহাশ্মশান–১’-এ রয়েছে ৯টি গান এবং দ্বিতীয় অংশ ‘মহাশ্মশান–২’-এ রয়েছে ৮টি গান। অ্যালবামের প্রতিটি গান একটি নির্দিষ্ট গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাজানো হয়েছে, যা শ্রোতাদের জন্য এক ভিন্নধর্মী সংগীত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
বর্তমানে অ্যালবামের সব গান স্পটিফাইসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে। মুক্তির পর থেকেই অ্যালবামটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
নতুন অ্যালবামের গল্প ও ভাবনা সম্পর্কে ব্যান্ডটির ভোকালিস্ট, লিরিসিস্ট ও গিটারিস্ট প্রবর রিপন বলেন,
“আমাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হায়েনা এক্সপ্রেস’-এ ‘এপিটাফ’ গানের মাধ্যমে একটি চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়েছিল। ‘মহাশ্মশান’ হলো সেই চরিত্রের পুনরুত্থানের গল্প। এবার চরিত্রটির নাম ‘দ্রোহ’। এই অ্যালবামে দ্রোহ মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মানুষের প্রতি তার প্রতিশোধ ও বিদ্রোহের গল্পই মূলত এই অ্যালবাম।”
তিনি আরও জানান, পুরো গল্পটি বুঝতে হলে শ্রোতাদের ১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যালবামটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা শুনতে হবে। অ্যালবামের শেষেও চরিত্রটির মৃত্যু ঘটে, তবে ভবিষ্যতে সে আবার নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা সোনার বাংলা সার্কাস ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হায়েনা এক্সপ্রেস’ প্রকাশ করে। ‘এপিটাফ’, ‘অন্ধ দেয়াল’ এবং ‘মৃত্যু উৎপাদন কারখানা’র মতো গান দিয়ে তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে ব্যান্ডটি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যান্ডটি আরও জানায়, অ্যালবাম প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যেই শুরু হবে ‘মহাশ্মশানের যাত্রা’ শিরোনামে একটি একক কনসার্ট সিরিজ। এই কনসার্টে নতুন অ্যালবামের সব গানই লাইভ পারফরম্যান্সে উপস্থাপন করা হবে, যা ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সোনার বাংলা সার্কাস ব্যান্ডের লাইনআপে রয়েছেন—
প্রবর রিপন (ভোকালিস্ট, লিরিসিস্ট ও গিটারিস্ট),
শ্বেত পাণ্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ (গিটারিস্ট),
শাকিল হক (বেজ গিটারিস্ট) এবং
সাদ চৌধুরী (ড্রামার)।
সংগীত বিশ্লেষকদের মতে, ‘মহাশ্মশান’ শুধু একটি অ্যালবাম নয়, বরং এটি সমসাময়িক সমাজ, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও বিদ্রোহী চেতনার এক শক্তিশালী সংগীত উপস্থাপনা।

