সম্প্রতি এক টক শোতে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষারের একটি মন্তব্য বিশেষভাবে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, “যে আমার হাঁটুর বয়সী, তাকে আমি হাঁটুর বয়সী বলতে পারব না? কিন্তু আমি যার বাপের বয়সী, সে আমাকে গালি দিতে পারবে? এটা কোন বাংলাদেশ?” এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আলোচনায় এসেছে একটি শব্দ—‘হাঁটুর বয়স’। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নিয়ে লিখছেন।
বাংলা ভাষায় কিছু অভিব্যক্তি আছে, যেগুলো শুনলেই আমাদের সামনে স্পষ্ট ভঙ্গিমা ফুটে ওঠে। ‘হাঁটুর বয়স’ ঠিক তেমনই একটি শব্দগুচ্ছ। মাঝে মধ্যেই আমরা বলি—‘ওর তো এখনো হাঁটুর বয়স,’ কিংবা ‘হাঁটুর বয়সের ছেলেমেয়েরা কিন্তু আজকাল বেশ সচেতন।’ কিন্তু এই ‘হাঁটুর বয়স’ আসলে কী বোঝায়?
‘হাঁটুর বয়স’ সাধারণত কৈশোর বা কাঁচা বয়সের প্রতীক। যে বয়সে আবেগ দ্রুত জাগে, সিদ্ধান্ত হয় তাড়াহুড়োয়, আর দুষ্টুমি বা উদ্দীপনা থাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে। অভিভাবকেরা তাই বলেন, ‘এই বয়সে সব বোঝা যায় না, বড় হলে বুঝবে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ওপরে ওঠে—হাঁটু থেকে বুকে, মাথায়, তারপর বাস্তবতার বিস্তৃত জগতে।
এ শব্দগুচ্ছ অভিজ্ঞতার অভাব বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। যেমন—নতুন কোনো কর্মস্থলে কেউ যোগ দিলে সহকর্মীরা মজা করেই বলে, ‘এখনো হাঁটুর বয়স, সময় গেলে বুঝবে।’ এতে তিরস্কার নয়; বরং ইঙ্গিত থাকে—এখনো শেখার জায়গা আছে।
সামাজিক অভিজ্ঞতার ভেতরেই তাই স্থান পেয়েছে ‘হাঁটুর বয়স’। এটি যেমন একটি বয়সের চিত্র তুলে ধরে, তেমনি শেখায় ধৈর্য—ছোটদের ভুল স্বাভাবিক, কারণ তারা হাঁটুর বয়সে। মনে করিয়ে দেয়, আমরাও একসময় একই বয়স পেরিয়ে এসেছি—দৌড়ঝাঁপ, অস্থিরতা, প্রবল কৌতূহল মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল আমাদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ।
ডিজিটাল যুগে হাঁটুর বয়স আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। হাতে স্মার্টফোন, সামনে বিস্তৃত দুনিয়া—তবুও অভিজ্ঞতার অভাব থেকেই যায়। এই ঘাটতিই মনে করিয়ে দিতে আমরা আজও ব্যবহার করি পরিচিত বাক্যটি—‘এ এখনো হাঁটুর বয়স।’
হাসির ছলে বলা হোক বা গম্ভীর উপদেশ হিসেবে—‘হাঁটুর বয়স’ মনে করায়, বড় হওয়া শুধু বয়স বাড়া নয়; বরং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়। আর অভিজ্ঞতা যত বাড়ে, দৃষ্টি তত ওপরে ওঠে—হাঁটু থেকে আকাশ পর্যন্ত।

