জাপানের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক ও আলোচিত এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ইয়োকোহামা সিটির মেয়র তাকেহারু ইয়ামানাকা। সহকর্মীদের উদ্দেশে ‘মানব আবর্জনা’সহ একাধিক অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে। সেখানে ইয়োকোহামা সিটির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জুন কুবোতা অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে মেয়র ইয়ামানাকা তাকে ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে ‘বোকা’, ‘অকার্যকর’ এবং ‘মানব আবর্জনা’সহ নানা অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে হেয় করেছেন। তার দাবি, এসব মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং পেশাগত মর্যাদার জন্যও চরম অবমাননাকর।
জাপানের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত দেশটিতে শীর্ষস্থানীয় সিটি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ খুব কমই ওঠে। ফলে বিষয়টি দ্রুতই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মেয়র সহকর্মীদের বাহ্যিক চেহারা নিয়েও কটূক্তি করেছেন এবং কখনো কখনো তাদের পশুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব আচরণ কর্মক্ষেত্রে গুরুতর হয়রানির শামিল বলে দাবি করেন জুন কুবোতা। তিনি মেয়রের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
প্রথমদিকে মেয়র তাকেহারু ইয়ামানাকা নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে শুক্রবার তিনি কিছু মন্তব্যের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
ক্ষমা চেয়ে ইয়ামানাকা বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার কিছু মন্তব্যের কারণে মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
তিনি ব্যাখ্যা দেন, এসব মন্তব্য মূলত কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত আলোচনার সময় করা হয়েছিল। তবে সহকর্মীদের বাহ্যিক চেহারা নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
মেয়র আরও জানান, বিষয়টি উপ-মেয়রের তত্ত্বাবধানে তদন্তের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
তবে অভিযোগকারী কর্মকর্তা জুন কুবোতা মেয়রের ক্ষমা গ্রহণ করতে নারাজ। তিনি বলেন, “মেয়র যেসব কথা স্বীকার করেননি, সেসব মন্তব্যও তিনি করেছেন। এ কারণে এই ক্ষমা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানের প্রশাসনিক শালীনতা, কর্মক্ষেত্রে আচরণবিধি এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

