সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

মহানগর ডেস্ক২ মিনিটে পড়ুন
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়া হবে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেড বা সর্বনিম্ন ধাপে মূল বেতন বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেড বা সর্বোচ্চ ধাপে মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা (নির্ধারিত) থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বিভিন্ন কমিটি এটি যাচাই-বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: বেতন কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে: অর্থ উপদেষ্টা
ভাতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন
নতুন সুপারিশে আবাসন ও যাতায়াত ভাতায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:
বৈশাখী ভাতা: বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ।
যাতায়াত ভাতা: এখন থেকে ১০ম ধাপ পর্যন্ত কর্মকর্তাদেরও যাতায়াত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে (আগে এটি ১১তম ধাপ থেকে কার্যকর ছিল)।
বাড়িভাড়া: নিচতলার কর্মচারীদের (১১-২০ ধাপ) জন্য বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর
অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের হারও বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কমিশন। যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ২০-৪০ হাজার টাকা পেনশনের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন যারা সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। বাজারদর ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখেই এই নতুন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
