জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এবং সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুনের রায়ের তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর এটি হবে প্রথম রায়।
ক্ষমতাচ্যুতির পর ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা সময় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছিল, যদিও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার আগেই প্রথমবারের মতো লকডাউন ঘোষণা করা হয়, এরপর শুরু হয় ককটেল হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সামনের দিনে দলটির সহিংস কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বিপুল অর্থের ব্যবহার হতে পারে।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, “আওয়ামী লীগের সহিংস কর্মসূচি সামনের দিনগুলোতে আরও দেখা যাবে। আগুন জ্বালানো, বাস পোড়ানো এবং জনগণের জীবনযাত্রা ব্যাহত করার মত ঘটনা আমাদের কপালে লেখা হয়েছে।”
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “আওয়ামী লীগের কাছে অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। তাদের প্রায় ৮ হাজার নেতাকর্মীর কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, এবং সেগুলো যে ব্যবহৃত হবে না, এমন নয়।”
বিশ্লেষকরা আরও জানান, ১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন সহিংস কর্মসূচি দেখা গিয়েছিল। এখন আবারও তাদের নেতাকর্মীরা সেই পথে হাঁটছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার দায়িত্ব সরকারের উপরই রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “আমরা রাজপথে পিটিয়ে মানুষ মারার দৃশ্য দেখেছি। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সেই অপতৎপরতা প্রতিহত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, এবং সরকার এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেবে বলেই আশা করছি।”
এদিকে, শেখ হাসিনার মামলার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে আরও বেশ কয়েকটি মামলার বিচার শেষের দিকে। এসব মামলার রায়ের পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আলতাফ পারভেজ বলেন, “আগামী দিনে আওয়ামী লীগ আরও কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে, এবং অন্য দলগুলো তাতে প্রতিবাদ জানাবে। নির্বাচনের সময় সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, এবং দলের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে ছাত্রলীগও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।


Spiffy