হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল হাওয়া ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পুরো জেলায় শীতের প্রকোপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে ভোররাতেই ঠান্ডার দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা চলতি সপ্তাহের অন্যতম কম তাপমাত্রা। এসময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন ও রাতের এই বড় তাপমাত্রার ব্যবধান শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে তুলছে। সকালে ও সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতা থাকে। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতল আবহ অব্যাহত রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বইছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় শীত কয়েকদিন ধরেই জেঁকে বসেছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাড়িভাসার কৃষক আকবর আলী বলেন, “ঠান্ডাটা কয়েকদিন ধরে অনেক বেড়েছে, সকালে মাঠে যাওয়া এখন কষ্টকর।”
কামাত কাজল দিঘীর ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম জানান, “ঘন কুয়াশা না থাকলেও সকালে খুব ঠান্ডা লাগে, ভ্যান চালাতে কষ্ট হয় এবং যাত্রীও কম।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত আরও বাড়বে।

