সকালের হাঁটাহাঁটি ও দৌড়ের জন্য শীতকালীন সতর্কতা
এই বছর সারাদেশে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। গতকাল চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় ছিল মাত্র ৬.৭ ডিগ্রি। তবে দীর্ঘদিন ধরে সকালে হাঁটা বা দৌড়ের অভ্যাস থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে গ্রীষ্মের তুলনায় শীতে কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ ঠাণ্ডায় শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পেশিতে খিঁচুনি বা চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়াও ঠাণ্ডা বাতাস গলা ও ফুসফুসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা হাঁপানি, এলার্জি বা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন।
সকালের হাঁটাহাঁটি বা দৌড়ের আগে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা উচিত, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বের হওয়ার আগে হালকা ব্যায়াম করুন
বাইরে যাওয়ার আগে বাসা বা রুমের মধ্যে হালকা স্ট্রেচিং, জাম্পিং জ্যাক বা দ্রুত হাঁটাচলা করুন। এটি শরীরকে গরম রাখে এবং পেশি নরম রাখার মাধ্যমে চোটের ঝুঁকি কমায়।
২. শীতের উপযুক্ত পোশাক পরুন
হালকা কিন্তু উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করুন যাতে শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে। কান, মাথা ও হাত ঢেকে রাখুন। খুব ঠাণ্ডা বা কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে সূর্য উঠার পর হাঁটাহাঁটি বা দৌড় করা ভালো।
৩. দূষণ ও ঠাণ্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষা
শীতে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তাই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করুন। সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বাইরের ব্যায়াম করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৪. ধীরে ধীরে শীতল হোন
হাঁটা বা দৌড় শেষে হঠাৎ পোশাক পরিবর্তন করবেন না। শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শীতল হতে ৫–১০ মিনিট সময় দিন।
৫. পানি পান করুন ও সঠিক খাবার খান
শীতে ঘাম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়। তাই হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ব্যায়ামের পর প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।
৬. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- খুব ঠাণ্ডায় খালি পেটে হাঁটাহাঁটি বা দৌড় করা এড়িয়ে চলুন।
- সূর্য ওঠার পর ব্যায়াম করা বেশি নিরাপদ।
- হাঁটার পরে হালকা স্ট্রেচ করুন।
- অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

