লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ: দগ্ধ ছোট মেয়ের পর বড় মেয়ে স্মৃতিও মারা গেল
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বসতঘরে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ ছোট মেয়ের মৃত্যুর পর এবার বড় মেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতিও (১৭) মারা গেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী স্মৃতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত স্মৃতি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের মেয়ে। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে বেলাল হোসেন নিজেও দগ্ধ হন।

যেভাবে ঘটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সুতারগোপ্তা এলাকায় দুর্বৃত্তরা বেলাল হোসেনের বসতঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বেলালের ছোট মেয়ে আয়েশা আগুনে পুড়ে মারা যায়। এ সময় বেলাল হোসেন, বড় মেয়ে স্মৃতি এবং মেঝো মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার বিথি গুরুতর দগ্ধ হন।
চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিবরণ
দগ্ধ অবস্থায় বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে স্মৃতি ও বিথিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, স্মৃতির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বিথির শরীরের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিথির অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে স্মৃতি দীর্ঘদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অবশেষে বুধবার রাতে তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
মামলা ও পুলিশি তদন্ত
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে নিহতদের বাবা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তালা উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি লক অবস্থায় এবং একটি খোলা ছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর দৃশ্যমান আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন,
“ঘটনার দিন আগুনে পুড়ে আয়েশার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ স্মৃতিও মারা গেছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

