ইরানের শাসনব্যবস্থা: এক নজরে ক্ষমতা কাঠামো
ইরানে মূলত ধর্মতাত্ত্বিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক অনন্য সমন্বয় রয়েছে। নিচে এর প্রধান স্তম্ভগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) – সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
- পদমর্যাদা: রাষ্ট্রের প্রধান এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- নিয়োগ: ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে নির্বাচিত করে।
- ক্ষমতা: বিচার বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত ক্ষমতা তার হাতে।
- ইতিহাস: ১৯৭৯ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র দুজন এই পদে বসেছেন—আয়াতুল্লাহ খোমেনি এবং বর্তমান নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
২. প্রেসিডেন্ট – রাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ
- নির্বাচন: জনগণের সরাসরি ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একজন সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে থাকতে পারেন।
- ভূমিকা: তিনি সরকার প্রধান। সংবিধান বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ এবং মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব পালন করেন।
- জবাবদিহিতা: তাকে অভিশংসন বা ইমপিচ করার ক্ষমতা পার্লামেন্টের আছে।
৩. প্রভাবশালী কাউন্সিলসমূহ
ইরানের শাসনব্যবস্থায় কয়েকটি কাউন্সিল ভারসাম্য রক্ষা করে:
- গার্ডিয়ান কাউন্সিল (১২ সদস্য): এটি সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থা। পার্লামেন্টের বিলে ভেটো দেওয়া এবং প্রেসিডেন্ট বা পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করার একচ্ছত্র ক্ষমতা এদের। ৬ জনকে সুপ্রিম লিডার সরাসরি নিয়োগ দেন।
- বিশেষজ্ঞ পরিষদ (৮৮ সদস্য): এদের কাজ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা এবং তার কাজের ওপর নজর রাখা। প্রয়োজনে তারা তাকে পদচ্যুতও করতে পারে।
- এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল: সুপ্রিম লিডারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এবং পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ মেটাতে এটি কাজ করে। এর ৪৫ সদস্যকেই সুপ্রিম লিডার নিয়োগ দেন।
৪. পার্লামেন্ট (মজলিস)
- সদস্য: ২৯০ জন (জনগণের ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত)।
- কাজ: আইন তৈরি এবং বাজেট অনুমোদন। তবে কোনো আইন কার্যকর করতে হলে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ছাড়পত্র প্রয়োজন।
৫. বিচার বিভাগ
- বিচার বিভাগের প্রধানকে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দেন। তার প্রধান কাজ হলো দেশে ইসলামি আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

