ভারতে ট্রাক-বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে দগ্ধ হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

ভারতে ট্রাক-বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে দগ্ধ হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

কর্নাটকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাসে আগুন লেগে নিহত অন্তত ১৭, আহত ২৬; শোক মোদির, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ২৬ জন https://biplobi24.com/আহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রাজ্যের চিত্রাদূর্গা জেলার একটি ব্যস্ত মহাসড়কে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হিরিউর এলাকা থেকে বেঙ্গালুরুমুখী একটি পণ্যবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ রাস্তার বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে লরিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে জ্বলে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ধাক্কার পরপরই বাসে আগুন ধরে যায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেক যাত্রী বুঝে ওঠার আগেই বাসটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়।

ঘুমন্ত যাত্রীদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ

দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা যাত্রীদের অনেকেই গভীর ঘুমে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হঠাৎ সংঘর্ষ ও আগুন লাগার ঘটনায় অনেকে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এবং বাসের দরজা-জানালা দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন

এর ফলে ঘটনাস্থলেই ১৭ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। আহতদের অনেকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসা

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও হাইওয়ে পেট্রোল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।

আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে হিরিউর ও চিত্রাদূর্গার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।

তদন্ত শুরু, পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। প্রশাসন মৃতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ করছে এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা ও ক্ষতিপূরণ

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে,

  • নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ
  • আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে

এ ছাড়াও রাজ্য সরকার আলাদাভাবে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে শোকের ছায়া

এই দুর্ঘটনার পর কর্নাটকসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এবং রাতের বেলায় দীর্ঘপথের বাসযাত্রা প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *