২৩৭টি আসনে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থনে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষোভ কমেনি; অনেকেই ঘোষিত প্রার্থীর বিরোধিতা করে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কিছু এলাকায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আয়োজন করা কর্মসূচি মনোনয়নপ্রাপ্তদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও রূপ নিয়েছে। মূলত ‘এক-এগারোর সংস্কারপন্থী’, ‘হাইব্রিড’ বা ‘বহিরাগত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে এসব বিক্ষোভ চলছে।
ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়নি—এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ঘোষিত ২৩৭টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬০টির বেশি আসনে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। সাতক্ষীরা-২ ও ৩, চাঁদপুর-২ ও ৪, জয়পুরহাট-১ ও ২, মৌলভীবীবাজার-২, মেহেরপুর-১, কুষ্টিয়া-২ ও ৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২, নোয়াখালী-৫ ও ৬, চট্টগ্রাম-২, ৪, ১২, ১৩ ও ১৬সহ বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা যুক্ত হচ্ছে এই বিক্ষোভে।
বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের এই উত্তেজনা নিয়ে বিব্রত হলেও শীর্ষ নেতারা এটিকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই যারা মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করেছিলেন, তারা না পাওয়ায় তাদের সমর্থকরা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। সময় গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমার মনে হয়।”
মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিগুলো দলীয় কেন্দ্র যাচাই করছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সমঝোতার চেষ্টা চলছে, এবং কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। মনোনয়ন বঞ্চিতদের ভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাসও দিয়েছে দল।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দল আগেই জানিয়েছে যে বঞ্চিতদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে, তাই অপেক্ষা করতে হবে।”
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিভিন্নভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে মনোনয়ন একজনই পান। এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়; পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে, যদিও তা খুব বেশি নয়।”
তবে তফসিল ঘোষণার পর দল যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে, তখন বিক্ষুব্ধ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে বিএনপি।

