সাংহাইয়ে বেশ কয়েকটি জাপানি সংগীতানুষ্ঠান হঠাৎ বাতিল হওয়া—এর মধ্যে একটি আবার গান চলাকালীনই বন্ধ করে দেওয়া—ভক্তদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে “অসভ্য” ও “চূড়ান্ত পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার ওয়ান পিস অ্যানিমের থিম সঙ গাইছিলেন মাকি ওতসুকি। গানটির মাঝপথে হঠাৎ আলো ও সঙ্গীত বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই কর্মী দ্রুত তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেন।
শনিবার, পপ তারকা আয়ুমি হামাসাকি সাংহাইয়ের ১৪ হাজার আসন বিশিষ্ট একটি স্টেডিয়ামে খালি আসনের সামনে পারফর্ম করেন, কারণ এর আগেই আয়োজকেরা “ফোর্স মাজ্যোর” দেখিয়ে তার কনসার্ট বাতিল করে দেয়।
এই বাতিলের ধারাবাহিকতা এমন এক সময় ঘটছে যখন জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান–সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
চীনের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত তাকাইচি গত মাসে ইঙ্গিত দেন, বেইজিং যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে টোকিও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
বেইজিং স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখে এবং “পুনঃএকত্রীকরণের” লক্ষ্যে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেনি।
এ ঘটনার পর দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে, এবং এই কূটনৈতিক বিরোধ দুই দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে।
ওতসুকির ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, তার পারফরম্যান্স স্থগিত হওয়ার কারণ ছিল “অনিবার্য পরিস্থিতি”।
“পারফরম্যান্স বাতিল হওয়া ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি; স্থানীয় কর্মীরা খুবই সদয় ও সহায়তাপূর্ণ ছিলেন,” সোমবার এক বিবৃতিতে তারা বলে। এ বিষয়ে তারা কোনো সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়নি।
ওতসুকির পরিবেশনা ছিল সাংহাইয়ের তিন দিনব্যাপী একটি সংগীত উৎসবের অংশ। জাপানের কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, “বিভিন্ন বিষয় সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে” পরবর্তী ইভেন্টগুলোও বাতিল করা হয়।
বিবিসি উৎসবের অন্যতম আয়োজক জাপানি বিনোদন সংস্থা বান্দাই নমকোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ওতসুকির কিছু ভক্ত তার পরিবেশনা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাটিকে চীনের সাবেক নেতা হু জিনতাওকে ২০২২ সালের কমিউনিস্ট পার্টির বৈঠক থেকে হঠাৎ বের করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে মিম তৈরি করেছেন। এই মিমটি সপ্তাহান্তে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে মন্তব্য করেন, “ওতসুকিকে হু জিনতাওয়ের মতো ব্যবহার করা হয়েছে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, জাপানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গিয়ে চীন নিজের নাগরিকদের সাংস্কৃতিক আনন্দ উপভোগের স্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছে। জাপানি ভাষায় এক্স–এ লেখা এক পোস্টে বলা হয়, “নিজেদের নাগরিকদেরই শাস্তি দেওয়ার মানে কী?”
চীনা প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে একজন লেখেন, “দর্শকদের কথা কি ভাবছেন না—তারা তো শেষ পর্যন্ত চীনা নাগরিকই!”
যুক্তরাষ্ট্রের জাপান–স্থিত রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসও অনলাইনে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এক্স–এ লিখেন, “সত্যিই দুঃখজনক যে অনেকে সংগীতের শক্তিকে অনুভব করতে পারে না।” তিনি ডোন’t স্টপ বিলিভিন’ গানের লিঙ্ক যুক্ত করে লেখেন, “মাকি–সান, ডোন’t স্টপ বিলিভিন’—নিজের বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে রাখুন!”
তবে এই ঘটনাটি চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী মনোভাবও উসকে দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে এমন অনুষ্ঠান আদৌ করা হলো কেন।
ওয়েইবোতে একজন লেখেন, “যখন পুরো জাতি জাপানের ওপর ক্ষুব্ধ, তখন এমন অনুষ্ঠান চলতে পারে কীভাবে?”
এদিকে এশিয়া ট্যুরের অংশ হিসেবে সাংহাইয়ে থাকা আয়ুমি হামাসাকি জানান, তাকে শুক্রবার হঠাৎ করেই তার কনসার্ট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবুও তিনি ১৪ হাজার খালি আসনের সামনে পারফর্ম করেন—তার ভাষায়, “কোম্পানির মানুষ, চীনা কর্মী এবং এই ট্যুরে লড়াই করে যাওয়া বড় জাপানি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ।” তিনি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিনোদন মানুষকে সংযুক্ত করার সেতু হওয়া উচিত, এবং আমি সেই সেতু তৈরির পক্ষে থাকতে চাই।”
দুই সপ্তাহ আগে, কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অন্তত দুটি জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে চলচ্চিত্রের মুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

