টানা তিন ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরবর্তী তিন ম্যাচে হেরে ছন্দ হারিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। ব্যাকফুটে চলে যাওয়া উত্তরবঙ্গের দলটি শেষ পর্যন্ত অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এনেও তাৎক্ষণিক সুফল পায়নি। নুরুল হাসান সোহানকে সরিয়ে লিটন দাসকে নতুন অধিনায়ক করা হলেও আগের ম্যাচে হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরল রংপুর। ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট থেকে ঢাকার বিদায়ও নিশ্চিত করল তারা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারায় রংপুর রাইডার্স। টস জিতে ঢাকা প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রানের শক্ত সংগ্রহ গড়ে রংপুর।
লক্ষ্য তাড়ায় ঢাকা ক্যাপিটালস শুরুতে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানেই থেমে যায়। ফলে রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে জয় তুলে নেয় রংপুর রাইডার্স।
এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর। ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াল ১০ পয়েন্টে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে নোয়াখালীর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো ঢাকা ক্যাপিটালসের। ৯ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে পাওয়া ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে রয়েছে ঢাকা। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তাদের পক্ষে আর রংপুরকে টপকে প্লে-অফে ওঠা সম্ভব নয়।
ব্যাট হাতে রংপুরকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার দাভিদ মালান ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের দৃঢ় জুটিতে মাত্র ১৪ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ পৌঁছে যায় ১২৬ রানে। ঢাকার বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন এই দুই ব্যাটার।
১৫তম ওভারে মালানকে বোল্ড করে অবশেষে উইকেটের দেখা পান তাসকিন আহমেদ। আউট হওয়ার আগে ৪৯ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন এই ইংলিশ ওপেনার। অন্যপ্রান্তে তাওহীদ হৃদয়ও তুলে নেন নিজের অর্ধশতক।
দলীয় ১৫৯ রানে মারুফ মৃধার বলে আউট হওয়ার আগে হৃদয় খেলেন ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬২ রানের কার্যকর ইনিংস। শেষ দিকে কাইল মেয়ার্স ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রংপুরের রান আরও বাড়ান। ১৬ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৪ রান করে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন তিনি।
মেয়ার্সের বিদায়ের পর অধিনায়ক লিটন দাস ক্রিজে এসে প্রথম বলেই বিদায় নেন। শেষদিকে খুশদিল শাহ ৭ বলে ৬ রান এবং নুরুল হাসান সোহান ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
রান তাড়ায় ঢাকার ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দেয়নি তাদের হাতে। এই পরাজয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে ঢাকার অভিযান শেষ হলেও রংপুর রাইডার্স নতুন করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে প্রবেশ করল।

