বিপ্লবী২৪ (Biplobi24) সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিউক অফ সাসেক্স (Prince Harry) যখন যুক্তরাজ্য সফর করেন, তখন তাঁর নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার এখন পর্যালোচনাধীন।
গত মে মাসে, যুক্তরাজ্য পরিদর্শনের সময় প্রিন্স হ্যারি তাঁর পুলিশি সুরক্ষা পুনরায় বহাল করার জন্য একটি আইনি মামলায় পরাজিত হন। সেই রায়ের পর বিপ্লবী২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি তাঁর জন্মভূমিতে পরিবারকে ফিরিয়ে আনতে নিরাপদ বোধ করছেন না, কারণ তিনি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না।
- স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পদক্ষেপ: জানা যাচ্ছে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের (Home Office) একটি পর্যালোচনায় এখন দেখা হবে যে, প্রিন্স হ্যারি রাজপরিবারের কার্যরত সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে এলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পূর্ণ পুলিশি সুরক্ষা পাবেন কি না। প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই স্তরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা অনেক আগেই করা উচিত ছিল।
- সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা: ‘দ্য সান’ পত্রিকার খবর অনুসারে, ডিউকের ওপর ঝুঁকির মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসেই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সংযোগ এবং নিরাপত্তা হ্রাসের প্রেক্ষাপট
রাজা চার্লস ডিউক এবং ডাচেস অফ সাসেক্সের সন্তানদের (আর্চি ও লিলিবেট) সঙ্গে এর আগে মাত্র একবার দেখা করেছেন। তিনি শেষবার তাঁর এই নাতি-নাতনিদের দেখেন ২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময়।
২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ডাচেস অফ সাসেক্সের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরই তাঁর নিরাপত্তা সুবিধা হ্রাস করা হয়েছিল।
আইনি লড়াইয়ের বিবরণ
এ বছরের শুরুর দিকে প্রিন্স হ্যারি তাঁর আইনি চ্যালেঞ্জে ‘প্রোটেকশন অফ রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস (Ravec)’ নামক কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানান। এই কমিটি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ রাজকীয়দের নিরাপত্তা অনুমোদনের কাজ করে।
- Ravec-এর অবস্থান: Ravec এই সিদ্ধান্তে আসে যে প্রিন্স হ্যারি যেহেতু যুক্তরাজ্যে অনিয়মিতভাবে আসবেন, তাই তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলি সফর অনুযায়ী আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
- প্রিন্সের আইনজীবীদের যুক্তি: ডিউকের আইনি দল যুক্তি দেয় যে, Ravec ২০২০ সালে তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনা করার সময় তিনি যে হুমকির সম্মুখীন, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। আইনজীবীরা আরও দাবি করেন যে, তাঁকে ‘নিকৃষ্ট আচরণের’ জন্য ‘একঘরে’ করা হয়েছে।
- আদালতের রায়: আদালত রায় দেয় যে, সিদ্ধান্তটি যেভাবে নেওয়া হয়েছিল তাতে কোনো বেআইনি কিছু ঘটেনি। একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক রায় দেন যে, নিরাপত্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রিন্স হ্যারির ‘ক্ষোভের অনুভূতি’ সফল আপিলের ভিত্তি হতে পারে না।
এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, প্রিন্সের নিরাপত্তা জ্যেষ্ঠ রাজকীয়দের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া উচ্চ স্তরের সুরক্ষার বাইরেই থেকে গেল।
আপিল হারানোর পর প্রিন্স হ্যারির প্রতিক্রিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপ্লবী২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারি বলেন, আপিলে হেরে যাওয়ায় তিনি ‘বিধ্বস্ত’। কোর্ট অফ আপিলের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা ‘অসম্ভব’, এবং তিনি এই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কোনো পথ দেখতে পাচ্ছেন না।
তৎকালীন সময়ে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছিল, “এই সমস্ত বিষয় আদালত বারবার এবং অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরীক্ষা করেছে এবং প্রতিবারই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।”
এক সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্য সরকারের সুরক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর এবং আনুপাতিক। বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা আমাদের দীর্ঘদিনের নীতি নয়, কারণ এটি নিরাপত্তার অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।

