জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দূরত্ব: বর্তমান প্রেক্ষাপট
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় দুই দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের জোট গঠনের আলোচনা হোঁচট খেয়েছে।
১. জামায়াত আমিরের ফেসবুক বার্তা
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন:
“ধৈর্যের পরীক্ষাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন। অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তাহলে আল্লাহ তা’আলাও আপনার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।” কারও নাম উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতেই তিনি এই ধৈর্যের কথা বলেছেন।
২. ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগসমূহ
বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জামায়াতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনেন:
- শরীয়াহ আইনের অবস্থান: জামায়াত ইসলামি আইন বা শরীয়াহ আইন করার পথ থেকে সরে গেছে বলে তারা দাবি করেন।
- সমঝোতার নির্বাচন: জামায়াত আমির তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলায় ইসলামী আন্দোলন মনে করছে, এটি একটি ‘সমঝোতার নির্বাচন’ হতে যাচ্ছে।
- চরমোনাই পীরকে অবমাননা: সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত ৯ ডিসেম্বরের এক বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান একটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে ইসলামী আন্দোলনের ভোট মাত্র ‘জিরো পয়েন্ট সামথিং’। এই মন্তব্যে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমভাবে অপমানিত বোধ করেছেন।
৩. রাজনৈতিক প্রভাব
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের শক্তি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ভোট করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় নির্বাচনী মেরুকরণে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

