অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিচার বিভাগ সংস্কার ও বিচারক নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বিচারক নিয়োগের নতুন মানদণ্ড: আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, শুধুমাত্র দলীয় আনুগত্য বা রাজনৈতিক স্লোগান (যেমন: জয় বাংলা বা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ) ১০ বছর দিলেই কেউ বিচারক হওয়ার যোগ্য হবেন না। বিচারক নিয়োগে পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
- সংস্কারের অগ্রগতি: তিনি দাবি করেন, সংস্কার কিছুই হয়নি—এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রত্যাশা অনুযায়ী ১০-এ ১০ না হলেও অন্তত ৪ ভাগ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পুলিশ সংস্কার প্রত্যাশা অনুযায়ী করা সম্ভব হয়নি।
- সংবিধান ও পরামর্শ: বর্তমান সরকার সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করছে। উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও এত কনসালটেশন বা আলোচনা করা হয়নি।
- উচ্চ আদালতের ক্ষমতা: বিচার বিভাগের প্রায় সব ক্ষমতা এখন উচ্চ আদালতের হাতে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কার উচ্চ আদালত থেকেই আসবে বলে তিনি জানান।
- দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: আসিফ নজরুলের মতে, আইনের শাসন (Rule of Law) পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে। বর্তমান সরকারের শুরু করা সংস্কারের ধারা নির্বাচিত সরকার অব্যাহত রাখলে জনগণ এর সুফল পাবে।

