জুলাই–আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার অভিযোগ: সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলক–এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত চিঠি ইস্যু না হওয়ায় সেদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে জয়ের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার পর নতুন তারিখে শুনানি নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য আড়াল করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব কর্মকাণ্ডে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলক সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হলে তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল–১ সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গণহত্যার তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়। এই পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে অবস্থান করে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
