গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

গণভোট সম্পর্কে সারাদেশে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকারি সূত্র জানায়, তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট সংক্রান্ত যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে গণভোট বিষয়ে অবহিত ও সচেতন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ ডিসেম্বর) বরিশালে পৃথকভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনগুলোতে গণভোটের উদ্দেশ্য, গুরুত্ব, আইনগত দিক এবং জনগণের করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। বক্তারা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি মতামত প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জানানো হয়, বরিশালের পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। পাশাপাশি ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সরকার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আজ ১২ জানুয়ারি রাজশাহী বিভাগে, ১৪ জানুয়ারি রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, ২২ জানুয়ারি সিলেট এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এসব মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী সংগঠন, এনজিও প্রধান ও এনজিও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন।

সভাগুলোতে গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা ও করণীয় তুলে ধরা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে জনগণের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *