কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটি এখন নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা এই প্রভাবশালী নেতার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কোনো উত্তরসূরি নেই।

উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ নামে পরিচিত ৮৮ সদস্যের একটি নির্বাচিত ধর্মীয় পরিষদ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। ১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এ প্রক্রিয়া মাত্র একবার প্রয়োগ করা হয়—তখন প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর খামেনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসকগোষ্ঠী দ্রুত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাইবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলা অব্যাহত থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদের বৈঠক আয়োজন কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সুপ্রিম লিডার হওয়ার যোগ্যতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই পুরুষ ধর্মযাজক হতে হবে। তার রাজনৈতিক দক্ষতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আদর্শের প্রতি আনুগত্য থাকা আবশ্যক। ধারণা করা হচ্ছে, পরিষদ আগের মতোই কট্টরপন্থী ঘরানার কাউকেই বেছে নিতে পারে।

আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

মোজতবা খামেনি: খামেনির দ্বিতীয় পুত্র হিসেবে পর্দার আড়ালে তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইরানি বিপ্লবের আদর্শে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। তিনি উচ্চপদস্থ ধর্মীয় মর্যাদা অর্জন করেননি এবং ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন।

আলীরেজা আরাফি: খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই জ্যেষ্ঠ ধর্মযাজক বর্তমানে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। তিনি প্রযুক্তিবান্ধব ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তবে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত।

মোহাম্মদ মেহেদী মিরবাঘেরি: কট্টরপন্থী ধর্মযাজক হিসেবে পরিচিত। তিনি পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের জন্য আলোচিত এবং ধর্মীয় রক্ষণশীল শাখার প্রতিনিধিত্ব করেন। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও সমালোচনায় ছিলেন।

হাসান খোমেনি: ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত। ২০১৬ সালে তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি: বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খামেনির ঘনিষ্ঠ হলেও আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব দৃঢ় নয়।

অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ

এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, রোববারের মধ্যেই একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হতে পারে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *