গ্রিনল্যান্ড সংকট: ট্রাম্পের লক্ষ্য ও বৈশ্বিক শঙ্কা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন। এমনকি প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন এই দ্বীপটি নিয়ে তিনি এত মরিয়া?
১. জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি কি অসার?
ট্রাম্প একে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু বললেও বিশ্লেষকরা তা নাকচ করে দিচ্ছেন। কারণ:
- গ্রিনল্যান্ড কোনো শত্রু দেশ নয়, বরং ন্যাটোর মিত্র দেশ ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ।
- সেখানে ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিটুফিক’ নামে একটি শক্তিশালী বিমানঘাঁটি আগে থেকেই আছে।
- রুশ সাবমেরিন নজরদারি বা ইউরোপের সাথে বাণিজ্যের জন্য বর্তমান চুক্তিগুলোই যথেষ্ট।
২. খনিজ সম্পদের টান?
গ্রিনল্যান্ডে প্রচুর জীবাশ্ম জ্বালানি ও বিরল খনিজ থাকলেও তা আহরণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মার্কিন কোম্পানিগুলো এখনই সেখানে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। তাই এটিও মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে না।
৩. আসল মতলব: ‘আমেরিকাকে বড় করা’ (Territorial Expansion)
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ট্রাম্পের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তা হলো:
- ভূখণ্ড সম্প্রসারণ: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট নতুন ভূখণ্ড যুক্ত করে দেশকে বড় করেছেন, ট্রাম্প হয়তো সেই তালিকায় নিজের নাম লেখাতে চান।
- বিজয়গাঁথা: ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে আক্ষরিক অর্থে ভূখণ্ড বাড়িয়ে সফল করতে চান তিনি।
সম্ভাব্য পরিণতি: ন্যাটো জোটের ভাঙন?
যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় বা ডেনমার্কের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করে, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে:
- ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকট: ডেনমার্ক একটি ন্যাটো সদস্য দেশ। এক সদস্য দেশ আরেক সদস্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চাইলে এই সামরিক জোটের ভিত্তি ধসে পড়তে পারে।
- ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

