খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এছাড়া তেলআবিবেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায়।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
খামেনি হত্যার পর ইরান একাধিক দফায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। তেলআবিবে একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত একজন নারী নিহত এবং প্রায় ১২০ জন আহত হয়েছেন।
আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর মানামায় অবস্থিত। এছাড়া দুবাই, দোহা ও কুয়েতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ইরাকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইরাক সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা প্রকাশিত বিবৃতিতে সরকারের মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
শোকের সময় সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন করা হবে।
অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের দায়িত্ব
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল সাময়িকভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ২৪টি প্রদেশে এখন পর্যন্ত ২০১ জন নিহত হয়েছেন।

