আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পাওয়ার’ কারণ দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ ও আহতদের খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। এ ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার পর সাহেদ আলীর কথিত ভাই শরীফ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, মামলার প্রধান ভুক্তভোগী সাহেদ আলীসহ অন্যান্য আহতদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ আহতদের সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে বাদী শরীফকে নোটিশ দিয়ে তার ভাই সাহেদ আলীকে থানায় হাজির করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে এসব প্রচেষ্টায় কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এছাড়া মামলার তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাদীর হাজারীবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হলে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামে সেখানে কেউ বসবাস করেন না। পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তার ঠিকানা লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী এলাকা হলেও সেখানেও খোঁজ নিয়ে তাকে কেউ চিনতে পারেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদীর দেওয়া মোবাইল নম্বরটি অধিকাংশ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু থাকলেও তা নিয়মিত নয়। তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও শরীফ ভুক্তভোগীকে হাজির করতে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। এমনকি মামলার এজাহারেও কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।

এই সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলাটি থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *