আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই

১৭টি সুইডিশ যুদ্ধবিমান কেনার ঘোষণা কলম্বিয়ার

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ ১৭টি সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমান কিনতে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তি এমন সময়ে হয়েছে, যখন কলম্বিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। ১৫ নভেম্বর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।

১৪ নভেম্বর পেট্রো নিশ্চিত করেছেন যে, সুইডিশ বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এটি একটি নতুন পদক্ষেপ, যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে।”

এই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ জন নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা শুধু মাদক পাচারের জাহাজ লক্ষ্য করেছে, কিন্তু তাদের এই পদক্ষেপের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি এবং লাতিন আমেরিকার নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পেট্রো এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আঞ্চলিক মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, যা উভয় নেতা নাকচ করেছেন।

পেট্রো বলেছেন, নতুন যুদ্ধবিমান কেনার মূল উদ্দেশ্য হলো “কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করা, তা যেখান থেকে আসুক না কেন।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা

পেট্রো এবং ট্রাম্পের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে বাকযুদ্ধ চলছে। পেট্রো যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ করেছেন যে, তারা লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে এবং ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছে। কলম্বিয়া কিছুদিন আগে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল, তবে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমান কেনার কারণ

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের কিছু কোম্পানিও কলম্বিয়ায় যুদ্ধবিমান বিক্রির চেষ্টা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সুইডেনের সাবকে বেছে নেন পেট্রো। সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল জনসন জানিয়েছেন, কলম্বিয়া এখন সুইডেন, ব্রাজিল এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে যোগ দিয়েছে গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে।

এভাবে, কলম্বিয়া একদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার উত্তেজনা বজায় রেখেছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *